বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর অবশেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রথম চালান পাঠিয়েছে কাতার। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানা গেছে।
মূল ঘটনাপ্রবাহ
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (০৭ মার্চ ২০২৬) কাতারের এলএনজি রপ্তানি কমপ্লেক্স থেকে একটি বিশাল ট্যাঙ্কার যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজের ড্রাফট লেভেল বা পানির নিচের অংশের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি পূর্ণ মাত্রায় এলএনজি বোঝাই করেই রওনা দিয়েছে। জাহাজের সিগন্যাল অনুযায়ী এর পরবর্তী গন্তব্য বাংলাদেশ এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ১৪ মার্চ এটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর চ্যালেঞ্জ
যাত্রার সংকেত পাওয়া গেলেও এই চালানটি গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা কাটেনি। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত অবরুদ্ধ। জলপথটি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ট্যাঙ্কারটি মাঝপথে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে অবস্থান করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংবেদনশীল পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
প্রেক্ষাপট: ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ও উৎপাদন বন্ধ
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানি ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল কাতার। এর আগে গত ২ মার্চ কাতারএনার্জি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পেট্রোবাংলাকে চুক্তির ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতিজনিত কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার নোটিশ প্রদান করেছিল। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণেই চুক্তি পালনে এই সাময়িক অক্ষমতার কথা জানিয়েছিল তারা।
কাতারএনার্জির অবস্থান
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে কাতারএনার্জির মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রথম চালানটি সাগরে ভাসায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে।